শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৬:৫৫ অপরাহ্ন
বছর ঘুরে আবার ফিরে এলো সৌভাগ্য রজনী শবেবরাত। কত ধর্মীয় পরিবেশে এবং উৎসবের আমেজে কাটানোর কথা ছিল এ পবিত্র রাত। কিন্তু মহামারী কোভিড-১৯ এর কারণে এবার শবেবরাত কাটবে ঘরোয়া পরিবেশে। আসলে এটাও আল্লাহপাকের ইচ্ছা। আল্লাহর ইচ্ছার কাছে আমরা সদা সমর্পিত। যেদিন প্রথম শবেবরাতের সুসংবাদ মা আয়েশাকে নবীজি (সা.) দিয়েছিলেন, সেদিনও একান্ত ঘরোয়া পরিবেশেই ছিল নবীজির শবেবরাত উদযাপন। জান্নাতুল বাকিতে নবীজি (সা.) দাঁড়িয়ে দীর্ঘ মোনাজাত করছিলেন।
মা আয়েশা হুজুরকে (সা.) বিছানায় না পেয়ে খুঁজতে খুঁজতে কবরস্থানে চলে আসেন। এখানে নবীজির কাছে মহিমান্বিত এ রাতের মর্যাদা সম্পর্কে তিনি জানতে পারেন। নবীজি (সা.) বললেন- হে আয়শা! এটি এমন এক মর্যাদাপূর্ণ রাত- এ রাতে আল্লাহতায়ালা বনি কালব এবং বনি রবিআ গোত্রের পশুপালের পশম পরিমাণ সংখ্যক বান্দাকে ক্ষমা করে দেন।
পবিত্র কোরআনে সূরা দোখানে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘ফিহা ইয়ুফরাক্বু কুল্লি আমরিন হাকিম। অর্থ- এ রাতে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।’ জলিলে কদর সাহাবি হজরত রাশেদ বিন আসআদ (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহতায়ালা মধ্য শাবানের রাতে বান্দার খুব কাছাকাছি চলে আসেন।’ অন্য বর্ণনায় এসেছে, পৃথিবীর খুব কাছের আসমানে অর্থাৎ প্রথম আকাশে নেমে আসেন। মুশরিক এবং হিংসুক ছাড়া সব বান্দাকে তিনি ক্ষমা করে দেন। তিনি আজরাইল ফেরেশতাকে বলে দেন, এ বছর কাদের জীবনের সময় শেষ হয়ে যাবে। অন্য বর্ণনায় এসেছে, এ বছর কারা মারা যাবে, কারা জন্মগ্রহণ করবে, কারা হজে যাবে এবং কে কতটুকু রিজিক পাবে এমন সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এ রাতে নেয়া হয়। হাদিস শরিফে এ কথাও বলা হয়েছে, এ বরকতময় রাতে বান্দার আমলনামা আল্লাহর সামনে পেশ করা হয় (তাফসিরে তাবারি, তাফসিরে মাজহারি এবং মেশকাত শরিফ)।
আলী (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সা.) বলেছেন, তোমরা মধ্য শাবানের রাতে দাঁড়িয়ে ইবাদত করো আর দিনে রোজা রাখো। এ রাত বড়ই বরকতময়। সূর্যাস্তের পর পর আল্লাহতায়ালা পৃথিবীর কাছাকাছি আকাশে এসে বান্দাকে ডাকতে থাকেন, আলা মিন মুস্তাগফিরিন ফাগফির লাহু। আলা মিন মুস্তারজিকিন ফারজুকহু। আলা মিন মুবতালান ফা আফিআ লাহু। আলা কাজা আলা কাজা হাত্তা ইয়াতলায়াল ফাজর। অর্থ- তোমাদের মধ্যে কেউ কি আছো ক্ষমাপ্রার্থী? তাকে আজ ক্ষমা করে দেবো। কেউ কি আছো রিজিকপ্রার্থী? তার জন্য রিজিকের খাজানা উন্মুক্ত করে দেব। কেউ কি আছো অসুস্থ? তাকে আজ পরিপূর্ণ সুস্থ করে দেব। এভাবে আল্লাহতায়ালা ফজর পর্যন্ত ডাকতে থাকেন (ইবনে মাজাহ শরিফ)।
এমন বরকতময় রাতের নেয়ামত লাভের জন্যই ভাবুক প্রেমিকগণ গেয়ে ওঠেন ‘রজনী হসনে অবসান/আজ নিশিতে আসতে পারে বন্ধু কালাচান…।’ একবার ভাবুন তো একটি বছর অপেক্ষার পর প্রেমাষ্পদের দেখা মিলবে, তিনি প্রেমের পরাগ ঢেলে হৃদয়ের চেরাগ আলোকিত করে দেবেন। এমন রাত যে ঘুমিয়ে কাটিয়ে দেয়, তার মতো হতভাগ্য আর কে আছে?
বিশ্ববাসীর জন্য এ মহিমান্বিত রাত একটি সুবর্ণ সুযোগ। সময়ের অভিশাপ করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য এ রাতে দু’ফোঁটা চোখের পানি ঝরিয়ে মোনাজাত করতে পারলে আশা করা যায় খোদাতায়ালার রহমতের ধারা নেমে আসবে পৃথিবী নামক এ গ্রহে। হে আল্লাহ! এ বরকতময় রজনীতে আপনার কাছে আমরা ক্ষমা-মুক্তি এবং সৌভাগ্য প্রার্থনা করছি। আপনি আমাদের বাঁচান। এ গ্রহকে বাঁচান।
মঈন চিশতী : লেখক, গবেষক
mueenchishty@gmail.com
Leave a Reply